
লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ট্রলারে খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটে ভুগে অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চার যুবক রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন— দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মোঃ নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০), একই গ্রামের মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মোঃ সাহান ও আব্দুল গণির ছেলে মোঃ সাজিদুর রহমান (২৮) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৪০)।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ট্রলারে করে গ্রিসের পথে রওয়ানা হয়েছিলেন তারা। সমুদ্রের মাঝপথে তাদের বহনকারী নৌকাটিতে খাদ্য ও পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দেয়। দীর্ঘ কয়েক দিন অনাহারে ও পিপাসায় কাতর হয়ে তারা মাঝপথেই প্রাণ হারান। বর্তমানে গ্রিসের একটি শরণার্থী ক্যাম্পে থাকা একই এলাকার এক সহযাত্রী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই ভয়াবহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চোখের সামনেই সঙ্গীদের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন তারা। প্রাণহীন দেহগুলো রাখার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অথবা নিরুপায় হয়ে মরদেহগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর নিহতের স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তারাপাশা ও রন্নারচর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বপ্ন পূরণের আশায় বিদেশ গিয়ে এমন সলিল সমাধি হবে, তা মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে নিহতদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলো।
উল্লেখ্য, লিবিয়া হয়ে ইউরোপে প্রবেশের এই বিপজ্জনক পথে প্রতি বছরই শত শত বাংলাদেশি প্রাণ হারাচ্ছেন। দালালদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখে পতিত হওয়ার এই মিছিল যেন থামছেই না।