
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট|
তাহিরপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সোলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে সম্প্রতি আনীত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তাদের মতে, শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল সুপরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তারের আনীত অভিযোগটি মূলত ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ। শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনতে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির অনৈতিক দাবি পূরণ না করায় তারা সংঘবদ্ধ হয়ে শিক্ষা অফিসারের সম্মানহানির চেষ্টা করছে।
ম্যাসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে কুপ্রস্তাবের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার স্বপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এখন পর্যন্ত দাখিল করা সম্ভব হয়নি।
প্রশিক্ষণ বা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি একটি দাপ্তরিক প্রক্রিয়া। মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তালিকা প্রণয়ন করায় সুযোগ না পাওয়া ব্যক্তিরা এটিকে ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে প্রচার করছেন।
শিক্ষা অফিসারের দাবি, তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সোলেমান মিয়া বলেন:
“আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করছি। একটি চক্র বিশেষ সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে। অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি আইনিভাবে এটি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত এবং সত্য উদ্ঘাটনের জন্য প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত কামনা করছি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, সোলেমান মিয়া একজন দক্ষ কর্মকর্তা। সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে বিতর্কিত করতে পারলে একটি চক্র অনিয়ম করার সুযোগ পাবে, আর সেই লক্ষ্যেই এই মিথ্যা অভিযোগের সৃষ্টি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মনে করা হচ্ছে, কোনো পক্ষ নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং নিরপরাধ ব্যক্তি ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।