
এনাম উদ্দিন সামী স্টাফ রিপোর্টার সিলেট
ইতিহাস বড় নির্মম। যারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না, ইতিহাস তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করে। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা যা দেখছি, তা কেবল একটি উপনির্বাচন নয়; বরং গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেওয়ার এক নির্লজ্জ মহড়া। শেরপুর-৩ এবং বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে আজ যা ঘটেছে, তা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে ১৯৯৪ সালের সেই কলঙ্কিত মাগুরা উপনির্বাচনের কথা। ৩২ বছর পর এসেও রাজনীতির সেই পচনশীল রূপ বিন্দুমাত্র বদলায়নি।
শেরপুরে আজ যা ঘটেছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়। জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মীকে লক্ষ্য করে যেভাবে গুলি চালিয়ে তার মাথার খুলি বের করে দেওয়া হয়েছে, তা কি কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক দেশে কল্পনা করা যায়? একজন রাজনৈতিক কর্মীর অপরাধ কী? তিনি কি কেবল নিজের ভোটাধিকার আর পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন? আজ তাকে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে হচ্ছে কেবল এই অপরাধে যে, তিনি একদলীয় শাসনের ইঞ্জিনিয়ারিং মেনে নেননি।
ভোটের নামে এই যে তামাশা, যেখানে নারী এজেন্টদের আটকে রাখা হচ্ছে, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিরুদ্ধ মতকে স্তব্ধ করতে সরাসরি বুলেট ব্যবহার করা হচ্ছে—একে কি আদৌ নির্বাচন বলা চলে? এটি তো স্পষ্টত একতরফা দখলের উৎসব। প্রশাসনের নাকের ডগায় যখন এই বিভৎসতা চলে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে রাষ্ট্রযন্ত্র আজ কার আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান যথার্থই বলেছেন, “দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কী হতে পারে, তার বিভৎস রূপ ইতিমধ্যেই জাতির সামনে চলে এসেছে।” এই রূপটি কেবল জামায়াতের জন্য নয়, বরং এই দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের জন্য এক অশনি সংকেত। আজ যারা ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ হয়ে বিরোধীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে, তারা ভুলে গেছে যে বুলেট দিয়ে সাময়িকভাবে দমিয়ে রাখা গেলেও মানুষের হৃদয়ের ক্ষোভকে কোনোদিন মুছে ফেলা যায় না।
আমরা এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। শেরপুরের রাজপথে আজ যে রক্ত ঝরল, সেই রক্ত বৃথা যাবে না। প্রতিটি বুলেটের হিসেব একদিন এই জনপদ নেবে। দমন-পীড়ন আর রক্তপাতের রাজনীতি দিয়ে যারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েই তাদের শেষ ঠিকানা হবে। জনগণের ভোটাধিকার আর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই রাজপথে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বিকল্প নেই।
আর কত রক্ত ঝরলে আপনাদের ক্ষমতার ক্ষুধা মিটবে? মানুষ কি কোনোদিনই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবে না?