1. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
জগদলের উন্নয়ন: ‘আন্ধাইর ঘরের বাত্তি’ নাকি ‘শুকনা ভাতের আশ’ - sylhetersangram
৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| শনিবার| রাত ১১:৩৩|
Title :
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে গাছের সাথে ট্রাকের ধাক্কা, ইটভাটার ম্যানেজার নিহত মাদকবিরোধী অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ছাতকের বৃহত্তর ঝিগলীতে যুবকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল ম্যানচেস্টারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন দিরাইয়ে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ: প্রতিবেশীর হামলায় তরুণী খুন, আহত ১ দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ শংকর চন্দ্র দাস আর আমাদের নেই। ঈদে পরিবার থেকে দূরে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে শাবিপ্রবি প্রশাসন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেটবাসীসহ দেশ ও বিদেশের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন মতো মতো মহানগর ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল হাসান সাগর পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা এম সাইফ উদ্দিন

জগদলের উন্নয়ন: ‘আন্ধাইর ঘরের বাত্তি’ নাকি ‘শুকনা ভাতের আশ’

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬,
  • 102 Time View

হেলাল আহমেদ, চ্যাপ্টির হাওর থেকে :::

 

উন্নয়নের জোয়ারে যখন দেশ ভাসছে, তখন দিরাইয়ের জগদল অঞ্চলের মানুষের দোটানায় কাটে দিন-রাত। উন্নয়নটা ঠিক কী? এটা কি ঘোর অমাবস্যার রাতে হঠাৎ জ্বলে ওঠা ‘আন্ধাইর ঘরের বাত্তি’, নাকি পেট খালি রেখে রাজভোগের স্বপ্ন দেখা ‘শুকনা ভাতের আশ’?

​কালনী ব্রিজের গোড়ায় দাঁড়ালে জগদল, চানপুর, করিমপুর আর মাঠিয়াপুরের মানুষের চোখে যে স্বপ্ন ঝিলিক দেয়, তা মূলত ‘ডিজিটাল মরীচিকা’। হাজার হাজার মানুষের ভরসা যে ‘জগদল-দিরাই রাস্তা’, সেটি এখন ইতিহাসের পাতায় নয়, নেতাদের ‘সাইড বেঞ্চে’ আরামদায়ক ঘুমে বিভোর।

​সাকিতপুরের লটারি আর ‘ক্ষমতার সাইড বেঞ্চ’

​জগদলের রাস্তা যখন ফাইলের তলায় ধুঁকছে, তখন পাশের সাকিতপুর গ্রামে উন্নয়নের বাতি এমনভাবে জ্বলছে যে সাধারণ মানুষ চোখ ধাঁধিয়ে ফেলছে। এক গ্রামের জন্য যদি পুরো রাস্তা বরাদ্দ হয়ে যায়, তবে তাকে কী বলা যায়? এটা কি কেবলই ‘ক্ষমতার দাপট’, নাকি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং চালাকি’?

​এলাকার এক মুরুব্বি আক্ষেপ করে বললেন:

​”বাবা, আমাগো রাস্তা হইলো বাসর ঘরের বাতি—দেখা যায় কিন্তু ধরা যায় না। আর নেতাদের উন্নয়ন হইলো সাকিতপুরের জামাই আদর। আমাগো কপালে কেবল শুকনা ভাতের আশ-ই রইলো।”

​উন্নয়নের মহা উৎসব:দিরাই উপজেলার জগদল ও করিমপুর ইউনিয়ন এবং জগন্নাথপুর উপজেলার ‘খলকলিয়া-চিলাউরা’হলদিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা যখন দর্শক,

,জগদল,করিমপুর ​খলকলিয়া, হলদিপুর আর চিলাউরা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ এখন এই উন্নয়নের নাটকে ‘দর্শকের’ ভূমিকা পালন করছেন। নেতারা যখন মঞ্চে উঠে উন্নয়নের ‘মহা উৎসব’ পালন করেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—এই উৎসবে কি শুধু বিশেষ বিশেষ গ্রামের দাওয়াত আছে? নাকি জগদল-চানপুরের মানুষগুলো উন্নয়নের মেনু কার্ডে কেবল ‘শুকনা ভাত’ দেখার জন্য আমন্ত্রিত?

​রাস্তার গর্তগুলো এখন এতই বড় হয়েছে যে, বর্ষাকালে সেখানে দিব্যি মাছের চাষ করা সম্ভব। খলকলিয়ার এক যুবক রসিকতা করে বললেন, “রাস্তা দিয়া চলা তো যায় না, তবে নেতারা চাইলে ওই গর্তে ‘উন্নয়নের নৌকা’ বাইচ আয়োজন করতে পারেন।”

​আন্ধাইর ঘরের সেই রহস্যময় বাত্তি

​কালনী ব্রিজ থেকে নেমে যখন কাঁচা রাস্তার কাদার সাথে কুস্তি লড়তে হয়, তখন নেতাদের দেওয়া ‘উন্নয়নের বাত্তি’ মোটেও জ্বলে না। এটা আসলে সেই বিশেষ বাত্তি যা কেবল নির্বাচনের আগে মিটিমিটি করে জ্বলে ওঠে, আর নির্বাচনের পর ‘আন্ধাইর’ হয়ে যায়।

​অন্যদিকে, এক গ্রামের জন্য রাস্তার কাজ এগিয়ে যাওয়া দেখে অনেকেই ভাবছেন, রাস্তা কি এখন থেকে ‘ভিআইপি’ এবং ‘সাধারণ’ কোটায় ভাগ হবে? সাকিতপুরের উন্নয়ন কি কেবল দাপটের ফসল, নাকি বাকি গ্রামগুলোর জন্য এটা নিছক ‘চালাকি’?

​উপসংহার

​সব মিলিয়ে জগদল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়ন এখন এক রহস্যময় গোলকধাঁধা। হাজার হাজার মানুষের স্বপ্নের রাস্তা যখন নেতাদের অবহেলার ডাস্টবিনে, তখন মহাসমারোহে উৎসব করাটা অনেকটা ‘মড়া কান্নার’ মতো শোনায়। জগদলের মানুষ এখন আর ‘শুকনা ভাতের আশ’ চায় না, তারা চায় সাকিতপুরের মতো সমান অধিকার।

​নেতারা কি সাইড বেঞ্চ ছেড়ে মাঠে নামবেন, নাকি জগদলের বাত্তি চিরকাল আন্ধাইর-ই থেকে যাবে? উত্তরটা সময়ের পেটে, আর রাস্তার কাদা জগদলবাসীর পায়ে!

 

আলোচক ও সমালোচক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৫ সিলেটের সংগ্রাম