
দিরাই প্রতিনিধি ::
সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ফলিত পুষ্টি বিষয়ক ৩ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (০৩মার্চ) সকাল ১০ টার দিকে উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন সঞ্জীব সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, দিরাই উপজেলা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারটানের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক প্রধান মুসফিকুছ সালেহীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব সরকার বলেন, শরীর সুস্থ রাখতে ফলিত পুষ্টিসমৃদ্ধ শাকসবজি ও খাদ্য গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। অসচেতনতার কারণে অনেক সময় মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়।
তিনি বলেন, সামান্য উদ্যোগ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজ বাড়ির আঙিনায় পুষ্টিসমৃদ্ধ শাকসবজি ও ফল উৎপাদন সম্ভব, যা ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ উদ্যোগে পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা। এ উদ্দেশ্যেই এমন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে শিক্ষক, সাংবাদিক, ইমাম, পুরোহিতসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে যাতে তারা প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিজেদের জীবনে প্রয়োগের পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করতে পারেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী বলেন, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারভিত্তিক শাকসবজি চাষ ও সচেতনতা বৃদ্ধি সময়ের দাবি। এ ধরনের প্রশিক্ষণ মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন দিরাই প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সামছুল ইসলাম সরদার, অর্থ সম্পাদক প্রশান্ত সাগর দাস, শিক্ষক সুধা সিন্ধু দাস, সুমনা আচার্য্যসহ কৃষক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ইমাম, পুরোহিত, নারী মাঠকর্মী ও ইউপি সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ।
তিন দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে পুষ্টিসমৃদ্ধ শাকসবজি উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, পারিবারিক পুষ্টি বাগান গঠন ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।