
পাবেল হাসান
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিতে ফ্যামেলি কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ৯৫৪টি পরিবারের জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৭৮৫টি পরিবারের তথ্য সার্ভারে জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্প হিসেবে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আকিল শাহ, রাধানগর ও উত্তর সূরিয়ারপাড় গ্রামকে বাছাই করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী এ তিন গ্রামে মোট খানার সংখ্যা ৯৬৮টি। তবে একাধিক দফা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে জরিপ চালিয়ে ৯৫৪টি খানা চূড়ান্তভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। জরিপে নির্ধারিত ফরমের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের সর্বোচ্চ ৪৯টি তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে ওই তিন গ্রামে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক ভাতা কর্মসূচির আওতায় ১৭৩ জন বয়স্ক ভাতা, ৮৬ জন বিধবা ভাতা, ৭০ জন প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। এছাড়া মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভিডব্লিউভি কর্মসূচির চাল পাচ্ছেন ৩৪ জন এবং খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৪১ জন উপকারভোগী রয়েছেন। তবে ফ্যামেলি কার্ডের আওতায় ঠিক কতটি পরিবার চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা এখনও নির্ধারণ হয়নি।
দিরাই উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাব্বির সারোয়ার জানান, কোনো পরিবার যেন বাদ না পড়ে সে লক্ষ্যে একাধিকবার জরিপ করা হয়েছে। একই পরিবারের তথ্য একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই শেষে সঠিক তথ্য সার্ভারে আপলোড করা হচ্ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত তথ্য জমা দেওয়ার শেষ দিনে ৭৮৫টি পরিবারের তথ্য আপলোড সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এখন কতটি পরিবার ফ্যামেলি কার্ড পাবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।