
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার আছিরনগর পোস্ট অফিসের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূর গুরুত্বপূর্ণ ডিভোর্স লেটার প্রায় চার মাস আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, টাকার বিনিময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে চিঠিটি গোপন রাখা হয়েছিল, যার ফলে তিনি ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েন।
ভুক্তভোগী মোছাঃ কামরুন নাহার জানান, গত বছরের শুরুতে তার নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভোর্স-সংক্রান্ত চিঠি আছিরনগর পোস্ট অফিসে পৌঁছালেও তা তার হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় চিঠি না পেয়ে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতা নেন এবং পরে ডাক বিভাগে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর সিলেট বিভাগীয় ডাক বিভাগের তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা পাওয়া যায়। উপ-পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য ডাক বিভাগ দুঃখ প্রকাশ করেছে।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শুধু একজন পিয়নকে দায়ী করে প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কামরুন নাহারের দাবি, পোস্টমাস্টার ইবনে জেরিনের যোগসাজশ ছাড়া এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পোস্টমাস্টার কিসমত আলী জানান এই সমস্যাটি দেড় বছর আগে তখনকার দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে সমাধান হয়েছে,ইদানীং আবারও এটি নিয়ে মেয়ের পক্ষ থেকে আলোচনা শুরু হয়েছে বিষয়টি বোগলাবাজার ইউপির চেয়ারম্যানকে অবগত করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান মিলন খানকে এই বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন যেহেতু দেড় বছর আগে এটির সমাধান হয়েছে এখন আবারও নতুন করে আলোচনা হচ্ছে অতএব ভুক্তভোগী মহিলাকে শিগগিরই ডেকে তার অভিযোগ শুনে সমাধানের চেষ্টা করব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, এ ধরনের অনিয়ম সাধারণ মানুষের ডাক বিভাগের প্রতি আস্থা নষ্ট করছে এবং ব্যক্তিগত ও আইনি নথির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।