1. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
যমুনা নদীর নৌপথে জলদস্যু সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য:চাঁদাবাজি,জিম্মি করে অর্থ আদায় - sylhetersangram
১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| শনিবার| সকাল ৮:০২|
Title :
দিপাঞ্জনের মৃত্যুতে শাবিপ্রবিতে বিশেষ প্রার্থনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পেলেন শাবিপ্রবি অধ্যাপক আশ্রাফুল করিম শাবিপ্রবিতে ছাত্রদলের উদ্যোগে জাতীয়তাবাদী পাঠচক্র শাবিপ্রবির নৃৎ -এর নতুন কমিটি গঠন, নেতৃত্বে নবমিতা-জীম শাবিপ্রবির জামালপুর এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে আবু হুরায়রা-সাহেল রানা শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা পদক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরস্কৃত জাফলংয়ে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মৃত্যুদাবির চেক প্রদান ও দোয়া মাহফিল  সিলেটে এসে শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি শাবিপ্রবির ফেনী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে মাহী-ইউনুস শাবিপ্রবির চোখ ফিল্ম সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন নেতৃত্বে জিম-অমিয়

যমুনা নদীর নৌপথে জলদস্যু সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য:চাঁদাবাজি,জিম্মি করে অর্থ আদায়

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২, ২০২৫,
  • 642 Time View

 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নৌপথে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের কারণে নৌপথে চলাচলকারী নৌযান ও ট্রলার স্টাফরা তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—চক্রটি প্রায় প্রতিদিনই নৌযানগুলোকে আটকে চাঁদা দাবি করছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি ও মারধরের মাধ্যমে জিম্মি করাও হচ্ছে।

 

নৌপথে দাপট—মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদর উপজেলার কাতুয়া ইউনিয়নের কলাবাগান অংশের যমুনা নৌপথই সন্ত্রাসীদের প্রধান কার্যক্ষেত্র। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই পথে চলাচলরত একটি ট্রলারের স্টাফকে কিছু ব্যক্তিরা আটক করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

জিম্মি হওয়া ওই ট্রলারের স্টাফ অভিযোগ করেন—“আমি নৌপথে বের হলেই তারা অস্ত্র নিয়ে ঘিরে ধরে। আজকে বাপ্পি, মিলন, পাশান, জয়নাল—এদেরই কয়েকজন আমাকে আটক করে টাকা দাবি করে। অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে, মারধর করে। পরে পরিবারের লোকজন নৌপুলিশকে খবর দিলে আমাকে উদ্ধার করা হয়।”

 

এই ব্যক্তিরা কারা—সে বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, তারা নৌপথে দীর্ঘদিন ধরেই দৌরাত্ম্য করছে, যার মধ্যে কিছুজন স্বেচ্ছাসেবকের মতে পূর্বে সর্বহারা দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং পরে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার দাবি করেছিল।

 

নৌপুলিশ বলছে ‘জিম্মি নয়, সন্দেহজনক আটক’ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল নৌপুলিশের পুলিশ সুপার বলেন—“আমাদের কাছে তথ্য এসেছে যে ওই ব্যক্তি জিম্মি নয়, তাকে সন্দেহজনক অবস্থায় স্থানীয়রা আটক করে রেখেছিল।”

 

তবে প্রশ্ন ওঠে—সন্দেহের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষ কাউকে আটক রাখতে পারে কি না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বলেন—“না, তা আইনসিদ্ধ নয়।”

 

তবে তিনি অভিযোগ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে বলেন—“যমুনার কোনো অংশে অবৈধভাবে মাটি বা বালু উত্তোলন করা যাবে না। কাউকে অনুমোদন ছাড়া উত্তোলনের সুযোগও দেওয়া হবে না।”

 

স্থানীয়দের আতঙ্ক—কিন্তু অভিযোগ দিতে ভয়

নৌপথে কর্মরত স্টাফ, মাঝি-মাল্লাসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন—নৌপথে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য নিয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন। কারণ,অভিযোগ করলেই পরবর্তীতে হামলা—হুমকির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

একাধিক নৌযান মালিকের ভাষ্য—“চাঁদা না দিলে আমাদের ট্রলার যমুনা নদীতে চলতে পারে না। মাঝেমধ্যে স্টাফদের আটকে রাখে। কিন্তু কেউ মুখ খুলতে চায় না।”

 

যমুনা নৌপথে আইনশৃঙ্খলাহীনতা—কার দায়?

নদী পথে পুলিশ টহল কম, পর্যাপ্ত নজরদারি নেই—এ অভিযোগও নতুন নয়। নৌপথের এই অংশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

 

নৌযান মালিকেরা মনে করেন—নিয়মিত নৌপুলিশ টহল নিশ্চিত করা নৌপথে নজরদারি বাড়ানো অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন;নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

 

উপসংহার:যমুনা নৌপথে সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য থামছে না—এমন অভিযোগ বহুদিনের। চাঁদাবাজি, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, মারধর—এসব ঘটনায় নৌযান শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত উদ্যোগ ও কার্যকর নজরদারি ছাড়া নৌপথের সন্ত্রাস দমন সম্ভব নয় বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৬ সিলেটের সংগ্রাম