1. sylhetersangram2025@gmail.com : sylhetersangram :
ছাতকে কিশোরকে যুবক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা : মজলুমের জামিন দিল আদালত - sylhetersangram
১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১লা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| শরৎকাল| বুধবার| রাত ১:০১|
Title :
শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা পদক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরস্কৃত জাফলংয়ে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মৃত্যুদাবির চেক প্রদান ও দোয়া মাহফিল  সিলেটে এসে শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি শাবিপ্রবির ফেনী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে মাহী-ইউনুস শাবিপ্রবির চোখ ফিল্ম সোসাইটির নতুন কমিটি গঠন নেতৃত্বে জিম-অমিয় শাবিপ্রবিতে শান্তর ক্যানভাস শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত শিশুদের নিয়ে ইমপ্যাক্ট৩৬০-এর ‘আমার শরীর, আমার নিরাপত্তা’ কর্মসূচি নেতা নয়, সেবক হয়ে জগদল ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে চান যুক্তরাজ্য প্রবাসী রুবেল আহমেদ ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পদক্ষেপ চেয়ে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের স্মারকলিপি লন্ডন থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রুবেল আহমেদ

ছাতকে কিশোরকে যুবক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা : মজলুমের জামিন দিল আদালত

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • Update Time : রবিবার, জুলাই ৬, ২০২৫,
  • 1185 Time View

মোঃ কামিল আলী নামে ১৩ বছরের এক কিশোরকে ২০ বছরের যুবক সাজিয়ে ছাতক থানা পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক মিথ্যা চুরির মামলায় ফাসিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করায় নির্যাতিত ঐ কিশোরকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

পাশাপাশি নির্যাতিত কিশোরের সুচিকিৎসার জন্য বিজ্ঞ আদালত,জেলা সমাজসেবা বিভাগের উপ-পরিচালক,সিভিল সার্জন ও জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়,সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের আকিলপুর গ্রামের সব্জি ব্যবসায়ী রমিজ আলী ছাতক পৌর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। তার ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি ছাতক উপজেলার কালারুখা ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের আব্দুল হামিদ ওরফে সুহেল মিয়ার পুত্র কামিল আলী (১৩) কে কর্মচারী হিসেবে নিয়োজিত করেন।

কিন্তু সবজি ব্যবসার আড়ালে দোকান মালিক রমিজ আলী ও তার ছেলেরা ইয়াবা ব্যবসা করে যাচ্ছিলো। কর্মচারী কামিল আলীকে দিয়ে ইয়াবা ও মদ ব্যবসার মালামাল পরিবহনকালে হঠাৎ একদিন মাদকের কার্টূন তার মাথা থেকে রাস্তায় পড়ে যায়।

তখন শিশু কামিল রাস্তায় পড়ে যাওয়া মালামাল উঠিয়ে দোকানে গিয়ে মালিককে কেন তাকে অনৈতিক ব্যবসায় নিয়োগ করেছে বলে কৈফিয়ত চাইলে দোকান মালিক রমিজ আলীগং তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে বিষয়টি কাউকে না বলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু নাছোড়বান্ধা কামিল আলী টাকার লোভে সাড়া না দিয়ে কথিত চাকরী ছেড়ে বাড়ীতে চলে যায়। কামিলের মা বাবা তাকে চাকুরীতে যাওয়ার জন্য চাপপ্রয়োগ করলে সে ঘটনার কথা বাধ্য হয়ে তাদেরকে প্রকাশ করে।

এদিকে দোকান মালিক রমিজ আলী কিশোর কামিল আলীকে তার বাড়ীতে গিয়ে তার মা-বাবাকে টাকার লোভ দেখিয়ে দোকানে ফিরিয়ে আনে। একপর্যায়ে গত ৩০ জুন সকাল ৮টায় উত্তেজিত রমিজ আলী ও তার ছেলেরা ইয়াবা ব্যবসার গোপন তথ্য ফাস করায় কিশোর কামিল আলীকে বেদম মারপিটক্রমে গুরুতর আহত করে একটি বিল্ডিং এর তিনতালা থেকে নীচে কাদায় ফেলে দেয়।

পরে কাদা থেকে তুলে পানি দ্বারা ধৌত করে আবার উপর্যুপরী মারপিট শুরু করে ঐ কিশোরকে। লাঠি রুইল জুতা হকিষ্টিক ইত্যাদি দ্বারা শারীরিক নির্যাতন ছাড়াও জাম্বুরা দ্বারা কানের এবং নাকের লথি পর্যন্ত ছিড়ে নেয় ইয়াবা ব্যবসায়ী নির্যাতনকারীরা।

মারপিটের একপর্যায়ে ঘটনার মূল রহস্য আড়াল করে প্রতারক রমিজ আলী তার ছেলে মোস্তাকীম আলীকে বাদী সাজিয়ে মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন কল্পকাহিনী দ্বারা ছাতক থানায় মামলা নং ০১ (জিআর ১৮৯/২৫) ধারা ৩৮০ দায়ের করে। ছাতক থানা পুলিশ মোটা অংকের টাকা উৎকোচের বিনিময়ে প্রকৃত সত্যকে আড়াল করে শিশু কামিল আলীকে ২০ বছরের যুবক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা এফআইআর করে। পরদিন ঐ শিশুটিকে ছাতক থানা ওসি মোখলেছুর রহমান আকন্দ (বিপি নং ৭৮০৪১১২৪০০) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গাজী মোয়াজ্জেম হোসেন (বিপি নং ৬৯৮৮০১১৭৭১) কথিত মিথ্যা মামলায় থানা থেকে কোর্টহাজতে প্রেরণ করেন। এদিকে শিশু কামিল আলীকে শিশু আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ গত ১লা জুলাই কথিত মিথ্যা মামলার আসামী শিশু কামিল আলীকে জামিন প্রদান করেন। জামিন প্রদানকালে বিজ্ঞ বিচারক বলেন,উপস্থাপিত শিশুর শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে নির্যাতন করার কারণে আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান রয়েছে।

অভিযুক্ত শিশু কোন ধরনের অপরাধ কর্মে জড়িত হলেও তাকে শারীরিক নির্যাতন করার অধিকার কারো নেই। অধিকন্তু অনুরুপ কার্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযুক্ত মোঃ কামিল আলীকে শারীরিক নির্যাতন কাজে কারা জড়িত তা সরজমিনে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করত: আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অত্র আদালতকে অবহিত করার জন্য সহকারী পুলিশ সুপার ছাতক (সার্কেল) সুনামগঞ্জকে নির্দেশ প্রদান করা হলো। এদিকে আশপাশের ব্যবসায়ীরা বলেন,কিশোর কামিল আলীকে তার দোকান মালিক ও দোকান মালিকের ছেলেরা প্রকাশ্য দিবালোকে নির্যাতন করেছে। এরা যেমন ঐ কিশোর নির্যাতনের জন্য দায়ী তেমনি দায়ী ছাতক থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তা যারা মোটা অংকের টাকা ঘুষের বিনিময়ে একজন নিরীহ কিশোরকে মিথ্যা চুরির মামলায় ফাসিয়ে প্রকৃত অপরাধীদেরকে আড়াল করেছে। আমরা ছাতক উপজেলাবাসী উক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ঘটনার ব্যাপারে জানতে চেয়ে ছাতক থানার এসআই গাজী মোয়াজ্জেম হোসেনের মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন,মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। শুধু জানি তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে এফআইআরে আমার নাম দেয়া হয়েছে। সবকিছু ওসি সাবের নির্দেশমতে হয়েছে।

ওসি মোখলেছুর রহমান আকন্দর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই মামলার ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গাজী মোয়াজ্জেম হোসেন সবকিছু বলতে পারবে। তিনি আরো বলেন,তবে আদালতের নির্দেশে রোববার (৬ জুলাই) এএসপি সার্কেল ছাতক থানায় এসে বিষয়টি তদন্ত করে গেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দিরাই সার্কেল) মোঃ শরিফুল হক বলেন,বিজ্ঞ আদালত আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক আমি রবিবার (৬ জুলাই) ছাতক থানায় সরজমিনে গিয়েছি। তবে বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন তাই তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে যাচ্ছিনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শিশু নির্যাতনকারীর প্রত্যক্ষ সহযোগী ছাতক থানার ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উর্ধতন পুলিশ প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহন করে সেদিকে দৃষ্টি এখন সকলের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। স্বত্ব © ২০২৬ সিলেটের সংগ্রাম