
দিরাই প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আর্থিক প্রতারণার শিকার হয়ে সোনা মিয়া (৫৮) নামের এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ধাপকাই গ্রামের আশকর আলীর ছেলে।
মৃত্যুর ঘটনায় ১৮ একটি সুইসাইড নোট লিখে গেছেন তিনি।
গত সোমবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় পরিবারের লোকজনের অগোচরে বাড়ির আলাদা একটি ঘরে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন সোনা মিয়া। খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোনা মিয়া প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রাতের কোনো এক সময় তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মাহত্যা ঘটনায় তিনি ১৮ পৃষ্ঠার একটি চিরকুট লিখে গেছেন। ওই চিরকুটে এক স্থানে তিনি উল্লেখ করেন- ‘বাঁচার খুব ইচ্ছে থাকার পরও তুহিন ও তার পিতা আরফান আলীর কারণে আর বাঁচা হল না’। জানা গেছে, সোনা মিয়া তার নামে সিলেট পুবালি মটরস ও ইসলাম মটরস থেকে তুহিন মিয়ার মাধ্যমে দুটি সিএনজি অটোরিকশা কিস্তিতে ক্রয় করেছিলেন। কিস্তির সমস্ত টাকা পাশের গ্রামের আরফান আলীর ছেলে তুহিন মিয়ার মাধ্যমে পরিশোধ করেন। কিন্তু তুহিন এ টাকা সিএনজি দোকান মালিককে না দিয়ে আত্মসাৎ করলে দুটি মামলা দায়ের করে মালিক পক্ষ। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সর্বশেষ গত শুক্রবার দিরাই পৌর শহরের সোলেমান মিয়ার বাসায় একটি সালিশ বোর্ডে সিদ্ধান্ত হয় তুহিন মিয়া চার কিস্তিতে সোনা মিয়াকে ১ লাখ টাকা পরিশোধের রায় করা হয় । এ রায় মেনে নিতে না পেরে হতাশ হয়ে সেখান চলে আসেন সোনা মিয়া। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। সালিশে উপস্থিত দিরাই পৌর বিএনপির আহবায়ক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা সালিশ বৈঠক থেকে বোর্ডের মাধ্যমে বিষয়টি সুন্দর ফয়সালা করে দিয়েছি। অপর আরেক সালিসি রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তুহিন মিয়ার চাচাতো ভাই আরিফুর রহমান দুলাল বলেন, সালিশ বৈঠকে উভয় পক্ষের কথা শুনে আমরা আলোচনা সাপেক্ষে বোর্ডের মাধ্যমে তুহিন মিয়া কর্তৃক ১ লাখ টাকা চার কিস্তিতে পরিশোধের রায় দিয়েছিলাম। প্রথমে কিছু অসম্মতি জানালেও পরে সোনা মিয়া মেনে নিয়েছেন। আত্মহত্যার বিষয়টি খুব দুঃখজনক। তবে সোনা মিয়ার স্বজন ও গ্রামের মানুষেরা বলছেন- এ আর্থিক লেনদেন ও বিচার সালিশের রায়ের বিষয়টি তার মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হওয়ায় তিনি চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন ।স্থানীয়রা বলেন, সোনা মিয়া পরিবারের একজন শান্ত ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবর এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
দিরাই থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক চিরকুট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।