
একজন মানুষ শিক্ষিত হলেই যে, ম্যন্টালি অনেক ম্যাচুউড হবে, সবার সাথে ভাল ব্যবহার করবে, উন্নত রুচিশীল মন মানসিকতার অধিকারী হবে,
যে কোন পরিস্থিতি টলারেন্স করার ক্ষমতা থাকবে,
মানুষকে পজিটিভলি বোঝার ক্ষমতা রাখবে।
এমনটা আসলে সবার কাছে আশা করা যায় না।
শিক্ষিত হওয়া আর মনুষ্যত্ব অর্জন করা এক কথা নয়। দুটো সম্পূর্ণই ভিন্ন জিনিস। অতি সহজে শিক্ষিত হওয়া গেলেও মনুষ্যত্ব অর্জন করা ততটা সহজ নয়।
সত্যিকার অর্থে অধিকাংশ মানুষ মনুষ্যত্ব অর্জন করার জন্য লেখাপড়া করে না। তাদের কাছে শিক্ষিত হওয়াটাই বড় কথা।
এটা সত্যি শিক্ষিত হলে, কিছু গদ বাধা সার্টিফিকেট, নামধারী কিছু মোটা কাগজ সহজেই অর্জন করা যায়। এতে শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করাই হয়,
প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া হয়ে ওঠে না।
দেশ ও জাতি সার্টিফিকেট নামধারী শিক্ষিতদের কাছ থেকে তেমন কিছু আশাও করতে পারে না।
আমাদের দেশে শিক্ষিত মানুষের অভাব নেই, কিন্তু শিক্ষিত বিবেকের অনেক অভাব আছে।
যে কারনে সরকারি অফিস, আদালত, মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অন্যায় করতে দেখা যায়। এদেরকে আর যাই বলেন, এই মানুষগুলোকে অশিক্ষিত বলতে পারবেন না। অকপটে বলা যায় এই মানুষগুলোর সার্টিফিকেটের অভাব নেই, কিন্তু মনুষ্যত্বের অভাব আছে।
সে কারণেই হয়তো ‘প্রমথ চৌধুরী’ অনেক আগেই বলেছিলেন,
“শিক্ষার দু’টি দিক থাকে, একটি প্রকৃত আর একটি অপ্রকৃত শিক্ষা।
একটি হচ্ছে শিক্ষার উপকারী দিক, যেটাকে বলে-প্রকৃত শিক্ষা।
আর একটি শিক্ষার অপকারী দিক, সেটাকে বলা হয়-অপ্রকৃত শিক্ষা।
প্রবন্ধকার আক্ষেপ করেই বলেছিলেন, বেশীরভাগ মানুষ শুধু শিক্ষার অপকারী দিকটাকেই ব্যবহার করে। উপকারী দিকটা তাদের নাগালের বাইরেই থেকে যায়।
অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ ‘প্রকৃত শিক্ষাটাকে’ কখনো খুঁজেই পায় না। হয়তো খোঁজার চেষ্টাও করে না।
শরৎ বাবুর মত বলতে হয়, পুরুষ সারাজীবন নারীর কাছাকাছি থেকেও নারীর রহস্য উদঘাটন করতে পারে না। হয়তো পারবেও না।
একটি কথাই বারবার বলতে ইচ্ছে করছে,,
“শিক্ষিত যদি হতেই হয়, তাহলে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হবো, না হলে ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য মোটা কাগজের সার্টিফিকেট আমার দরকার নাই। হায়রে শিক্ষিত নামক নরাধম তোদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। এতে সমাজ ও সর্ব মহলের মানুষের মধ্যে শান্তি আসবে ।