
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সরকারিভাবে প্রণীত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে তালিকায় অকৃষক, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং এলাকাতে থাকেন না এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ২১ জুন (রবিবার) উপজেলার ৬নং করিমপুর ইউনিয়নের ০৮নং ওয়ার্ডের চান্দপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে স্বপন চন্দ্র দাস নামের এক ব্যক্তি দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং করিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, করিমপুর ইউনিয়নের ০৮নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত চান্দপুর গ্রামে সরকারি সহায়তার জন্য যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তাতে চরম জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। গ্রামের প্রকৃত কৃষকরা যখন সহায়তার তালিকা থেকে বঞ্চিত, তখন তালিকায় এমন অনেক লোকের নাম ঢুকানো হয়েছে যারা কৃষিকাজের সাথে জড়িত নন। এদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি চাকুরিজীবী, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনুপস্থিত (প্রবাসী বা অন্য এলাকায় বসবাসকারী) ব্যক্তিরাও রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ে সঠিক যাচাই-বাছাই না করে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এই পকেট তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা চরম আর্থিক লোকসান ও হতাশার মধ্যে পড়েছেন।
লিখিত আবেদনে কৃষকদের পক্ষে স্বপন চন্দ্র দাস অবিলম্বে এই বিতর্কিত তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই (স্ক্রিনিং) করার দাবি জানান। একই সাথে তালিকা থেকে অকৃষক, চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নাম বাতিল করে সেখানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর অনুরোধ করা হয়েছে। আবেদনের সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একটি পৃথক তালিকাও সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে যাতে কোনো প্রকৃত কৃষক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।